এরপর বাড়ি গিয়ে লোলা নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিসপত্রগুলো গুছিয়ে নেয় এবং মায়ের সাথে নিজোর সৎ বাবার বাড়িতে শিফট হয়। এভাবেই ও অফিশিয়ালি রেমির সৎ বোন হয়ে যায়। রেমি লোলার বক্সগুলো সরিয়ে দিয়ে বলে আমার কোনো জিনিসে তুমি হাত দেবে না। আসলে রেমি লোলাকে সহ্যই করতে পারছিল না, কারণ লোলার আসার কারণে রেমিকে নিজের রুম চেঞ্জ করতে হয়েছে। রেমি থ্রেট দেয় আর বলে, আমি তোমার মায়ের সাথেও তোমার থেকে বাজেভাবে বুলিং করব।" এদিকে স্কুলেও লোলার এই নতুন ফ্যামিলি নিয়ে আজেবাজে গসিপ ছড়াতে থাকে এবং সবাই লোলাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। তবে পে সবসময় লোলার পাশে দাঁড়ায় এবং লোলার মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে। পরদিন লোলা নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুতুলগুলো খুঁজে পাচ্ছিল না। পরে ও জানতে পারে যে রেমি সেগুলোকে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে কারণ রেমির কাছে পতুলগুলো দেখতে পচা লাগছিল। লোলা এতে খুব কষ্ট পেয়ে পুতুলগুলো তুলে আনে, কারণ ওগুলো ছিল ওর মৃত বাবার দেওয়া শেষ গিফট। লোলা রেমির ওপর খুব রেগে গেলেও নিজের মায়ের সুখের কথা ভেবে চুপ করে থাকে। কিন্তু রেমি একজন আস্ত বদমাশ! ও ডিনার টেবিলে সবার সামনে লোলার মাকে অপমান করে। আর বলে, "আপনার রান্নার হাত এতই বাজে যে এগুলো মুখে দেওয়া যাচ্ছে না!" কথাটা লোলার মায়ের মনে খুব লাগে এবং রেমির বাবা রেগে রেমিকে কড়া শাস্তি দেয়। এরপর লোলা রেমির মায়ের একটি পুরনো ছবি খুঁজে পায়। রেমি সাথে সাথে সেটা ছিনিয়ে নেয়। লোলা তখন রেমিকে বলে, "তোমার মা যদি বেঁচে থাকতে তবে তোমার মতো ছেলেকে নিয়ে কখনোই প্রাউড ফিল করত না!" কথাটা শুনে রেমি খুব গিল্টি ফিল করতে থাকে আর মনে মনে অনেক কষ্ট পায়। পরের দৃশ্যে দেখা ঢ়সয় স্কুলে হঠাৎ ভাইরাল ফিভার ছড়িয়ে পড়ে এবং সবাই মাস্ক পরতে শুরু করে। লোলা পে-কে বলে ফুটবল খেলার আগে যেন পে নিজের টেম্পারেচার চেক করে নেয়। পে তখন লোলার খুব কাছে চলে আসে এবং দুষ্টুমি করে ওর মুখের ওপর ফুঁ দেয়। পে ফুঁ দেওয়ার পর লোলার মনে হয় যেন একটি উষ্ণ চুম্বন ওর আত্মাকে ছুঁয়ে গেল। লোলা পেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় এবং পে-র সামনে নিজেকে বেশ কঠিন হিসেবে প্রেজেন্ট করার চেষ্টা করে। এদিকে পে সারাক্ষণ লোলাকে টাচ করার উছিলা খুঁজতে থাকে। পরদিন পে লোলাকে ফোন করে নিজের বাড়িতে ডাকে এবং বলে আমি খুব অসুস্থ, তাই তোমার সাহায্য আমারর খুব দরকার। কিন্ত লোলা খুব ভালো করেই বুঝতে পারে পে আসলে একদম মিথ্যে বলছে। পে তখন লোলার সাথে ফ্লার্ট করে বলে, "আমি চাই তুমি আমার স্বপ্নের সেই রানি হও!" লোলা বিরক্ত হয়ে ফোন কেটে দেয়। লোলার মা পরেরদিন জিজ্ঞেস করে কোন ছেলে তোমাকে সারাক্ষণ ফোন করে। লোলা প্রায় বলেই দিচ্ছিল যে ওটা ওর বয়ফ্রেন্ড তবে কোনোমতে নিজেকে সামলে দেয়। এরপর স্কুলে লোলার কাজিন ইউলি নতুন স্টুডেন্ট হিসেবে জয়েন করে। ইউলি এতটাই সুন্দরী যে প্রথম দিনেই ও সব ছেলেদের নজর কেড়ে নেয়। হঠাৎ ইউলির জুতার হিল এক জায়গায় আটকে গেলে পে সবার আগে দৌড়ে যায় এবং ইউলিকে হেল্প করে। এটা দেখে লোলা প্রচণ্ড জেলাস ফিল করে। লোলার মনে পড়ে যায় ছোটবেলায় ইউলি বলেছিল তোমার যা যা আছে সবকিছু আমি কেড়ে নেব। " এবার ইউলি লোলার ক্লাসেই ভর্তি হওয়ায় লোলা বেশ ভয় পেয়ে যায়। ক্লাসের সব মেয়েই বলছিল ইউলি অনেক কিউট। লোলা বারবার খেয়াল করছিল পে-র রিয়্যাকশন কী। কিন্তু ওদিকে মন দিতে গিয়ে লোলা ক্লাসে অন্যমনস্ক হয়ে যায় এবং প্রফেসর ওকে পানিশমেন্ট দেয়। এটা দেখে ইউলি মনে মনে বেশ খুশি হয়। এভাবে একদিন লোলা খেয়াল করে যে পে লুকিয়ে লুকিয়ে ইউলিকে দেখছে। যেটা দেখে লোলা অনেক রাগ করলেও পে আড়ালে ইউলির ওপর নজর রাখা বন্ধ করে না। এক সময় এতে করে পে আর ইউলির মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ হয়ে যায়। তারা যখন একসাথে হাসাহাসি করে, লোলার মনে হয় ওর বুকে কিছু তীরের মতো বিঁধছে। স্কুলের অন্য মেয়েরাও ইউলিকে হিংসে করত, তাই তারা লোলার সাথে হাত মেলায় যাতে ইউলির ওপর প্রতিশোধ নেওয়া যায়। এদিকে পে ইউলির বাসায় গিয়ে অবাক হয়ে যায় যে ইউলি কত লাক্সারিয়াস একটা বাড়িতে থাকে! লোলার সাথে ইউলিরর ফ্যামিলির টাকার এত ডিফারেন্স কেন সেটা নিয়ে পে প্রশ্ন করে। ইউলি জানায় আসলে আমাদের দুই ফ্যামিলির মধ্যে অনেক ঝামেলা চলছে। পরদিন ওরা সবাই মিলে বোলিং খেলতে যায়। লোলা বোলিং করতে পারছিল না, তাই পে ওর টিচার হয়ে ওকে শেখাতে শুরু করে। লোলাও এতে বেশ এক্সাইটেড হয়ে পড়ে। তবে তখনি সেখানে ইউলি চলে আসে আর পে-র সব অ্যাটেনশন ইউলির দিকে চলে যায়। এটা দেখে লোলা এতটাই ডিস্ট্রাক্টেড হয়ে যায় যে বল ছুড়তে গিয়ে ও নিজেই পিছলে পড়ে যায়। সবাই এতে লোলাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। ইউলি আবারও পে-র কাছাকাছি চলে আসে আর লোলা প্রচণ্ড ডিপ্রেশনে পড়ে সেখান থেকে ফিরে চলে যায়।